‘বিএনপির আন্দোলনের বিকল্প হচ্ছে আগুন সন্ত্রাস আর গুজব’

‘বিএনপির আন্দোলনের বিকল্প হচ্ছে আগুন সন্ত্রাস আর গুজব’

বিএনপির আন্দোলনের বিকল্প হচ্ছে আগুন সন্ত্রাস, অপরাজনীতি আর গুজব সৃষ্টি করা বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সোমবার সকালে রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিকল্প আন্দোলনের নামে দেশের সম্পদ এবং জীবনহানির ঘটানোর অপপ্রয়াস জনগণ ও সরকার মেনে নেবে না। বিএনপি আন্দোলনে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

বিএনপির বিকল্প আন্দোলন হচ্ছে দেশ-বিদেশে গোপন বৈঠক আর ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, জনবিচ্ছিন্ন এসব আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে কোন লাভ নাই কারণ মুজিব আদর্শের সৈনিকেরা রাজপথে ভয় পায় না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আন্দোলনে বাধা দিলে বিএনপি নাকি বিকল্প পথে আন্দোলন করবে! যারা এ পর্যন্ত রাজপথে কোনো ধরনের আন্দোলনের ঢেউ তুলতে পারেনি, তাদের বাধা দেয়ার দরকার হয় না। বিরোধী মত দমাতে ভয়ংকর কোনো শক্তি কাজ করছে, বিএনপি মহাসচিবের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেই শক্তির পরিচয় জনসম্মুখে প্রকাশ করুন।

‘দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই’- বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকারের সমালোচনার জন্য এ পর্যন্ত একজন বিএনপি নেতাকেও গ্রেফতার করা হয়নি। সুতরাং দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে বিরাজমান।

‘সরকার ক্ষমতা, দাম্ভিকতা আর দুর্নীতির বৃত্ত তৈরি করেছে’- মির্জা ফখরুল ইসলামের এমন অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ কথাগুলো বিএনপির শাসনামলের জন্যই চির সত্য। বিএনপিই এদেশে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিয়েছিল। ক্ষমতার অপব্যবহারের মহোৎসব তাদের শাসনামলে হয়েছিল আর হাওয়া ভবন নামে বিকল্প ক্ষমতাকেন্দ্র তৈরি করেছিল।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে অবিরাম প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন অথচ বিএনপি কোনোরূপ সহযোগিতা না করে অপরাজনীতির মাধ্যমে গণতন্ত্রের এগিয়ে যাওয়ার গতিকে বারবার থামিয়ে দিচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির অগণতান্ত্রিক আচরণ এবং রাজনীতি এদেশের গণতন্ত্রের চলমান ধারাকে বিঘ্নিত করছে।

Please Share This Post in Your Social Media

রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুকে জাতির সামনে ক্ষমা চাইতে বলেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে রোববার বাংলাদেশ কৃষক লীগ আয়োজিত ‘কৃষক সমাবেশ ও আলোচনা সভায়’ তিনি এ কথা বলেন। ধানমন্ডি-৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর প্রাঙ্গণে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, মিনুর বক্তব্য যদি বিএনপি দলীয় বক্তব্য হয় তাহলে আওয়ামী লীগের অনেক কিছু বলার আছে, অনেক কিছু করার আছে। সরকারকে অনুরোধ করব তাকে আইনের আওতায় এনে এ বক্তব্যের উৎস কি তা খতিয়ে দেখা হোক।

কৃষক লীগ সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দের সভাপতিত্বে সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি ও কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি এমপি।

বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এর পরে সেই ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে নিষিদ্ধ করা হলো। শুধু নিষিদ্ধই নয়, আমরা যারা মুজিব প্রেমিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর চেষ্টা করেছি আমাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। শুধু গ্রেফতারেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা বাজার থাকা ৭ মার্চ ভাষণের সব কিছু মুছে দিতে চেয়েছিল। আজ তারাই ৭ মার্চের ভাষণ পালন করছে। তাদের এসবই দেশ-বিদেশের ষড়যন্ত্রের অংশ।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, বাংলার মানুষ সরকার পতনের তর্জন-গর্জন জনগণ আর বিশ্বাস করে না। জনগণ বিএনপির ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছে। জনগণ দেশের স্থিতিশীল, শান্তি-শৃঙ্খলায় বিশ্বাসী। বিএনপির আন্দোলনের নামে অশুভ তৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার জনগণ। তবুও দেশ-বিদেশের যে ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে তার জন্য আমাদের সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

‘মিনুকে জাতির সামনে ক্ষমা চাইতে হবে’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ব্রেকিং নিউজ :